ডায়াবেটিস।ডায়াবেটিস এর লক্ষন ও প্রতিকার

ডায়াবেটিস।ডায়াবেটিস এর  লক্ষন ও প্রতিকার

 ডায়াবেটিস হল একটি রক্তের সমস্যার নাম।রক্তে যখন গ্লুকোজের মাএা বেড়ে যায় সেই অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।ডায়াবেটিস হলে শরীরে ভিবিন্ন সাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয় যেমন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সমস্যা ডায়াবেটিস হলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় ফলে হার্ট এটাক, স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে।ডায়াবেটিসে নেত্র সমস্যা হতে পারে যার কারনে বন্ধাত্য, অন্ধতা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। নিচে ডায়াবেটিসের ফলে শারিরিক আরও কিছু ঝুকি তুলে ধরা হল:-

 

*কিডনি সমস্যা: ডায়াবেটিসে কিডনির সমস্যা হতে পারে যা ক্রোনিক কিডনি ডিসিজ অথবা ডায়াবেটিক নেফ্রোপাথির কারণে হতে পারে।

*নার্ভসংক্রান্ত সমস্যা: ডায়াবেটিসে নার্ভ সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে, যেমন নার্ভ ডেমেজ, নার্ভ পেইন ইত্যাদি।

*মেটাবলিক সমস্যা: ডায়াবেটিস মেটাবলিক সমস্যা সৃষ্টি করে যেমন ডায়াবেটিক কেতোএসিডোসিস, হাইপোগ্লিসেমিক কোমা ইত্যাদি হতে পারে।

 ডায়াবেটিসের লক্ষন:
(১)ঘন ঘন প্রসাব হওয়া.
(২)হাতে পায়ে জ্বালা করা.
(৩)দৃষ্টি হিনতা দেখা দেওয়া.
(৪)ক্ষুদা বেড়ে যাওয়া.
(৫)প্রসাবে জ্বালা করা.
(৬)ক্ষত স্থান সহজে না শুকানো.
(৭) হ্রদ স্পন্দন বেড়ে যাওয়া.
(৮)রক্ত চাপ বা হাইপার টেনশন হওয়া.
ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিলে প্রাথমিক ভাবে ডায়াবেটিস পরিক্ষা করা উচিত।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়:
*পুষ্টিকর খাবার সেবন করা: স্বাস্থ্যকর খাবার যেমন সবজি, ফল,প্রোটিন ও কাঁচা ফল গ্রহন করতে হবে।

*পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা: নিয়মিত ব্যায়াম করে ওজন কমানো।
* ডায়াবেটিসের  পরীক্ষা করা: নিয়মিত ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করে প্রয়োজনে অভ্যাস  পরিবর্তন করা।
* ঔষধ নিয়ন্ত্রণ করুন: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা।
* জীবনযাপন: স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা, ধূমপান এবং মাদকাসক্তি থেকে দূর থাকা।
*  ডায়াবেটিস বিষয়ক শিক্ষা নেয়া: ডায়াবেটিস এবং তার নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষাগ্রহন করা।
*  ডায়াবেটিক চেকআপ: ডায়াবেটিক পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিতভাবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা :
*সবজি:  লাউ, শিম, বাঁধাকপি, মূলা, গাজর, ফুলকপি, স্পিনাচ, ব্রোকলি ইত্যাদি খাওয়া উচিত।
*ফল: পেয়ারা, আঙ্গুর, কমলা, আম, অলু, পাপে ইত্যাদি  ফল খাওয়া উচিত।
*খাদ্য অংশ: প্রোটিন উৎস হিসেবে ডাল, মাংস, মাছ, ডিম গ্রহণ  করা উচিত।

*অল্প গ্লুকোজ বহন কারি খাবার:  ওটমিল, ব্রাউন চাইস, কোয়াকারমেল ইত্যাদি।

*তেল: অল্প পরিমাণে তেল ব্যবহার করা উচিত, যেমন অলিভ অয়েল, কোকোনাট অয়েল, ইত্যাদি

ডায়াবেটিস রোগীদের নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা :
 *ডায়েবেটিস রোগিার মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকৃষ্ট থাকে কিন্তু মিষ্টি জাতীয় খাবার গেলে তাদের সমস্যা বেড়ে যাবে তাই মিষ্টি জাতীয়  খাবার যেমন , কেক, বিস্কুট, চকোলেট,ইত্যাদি একদম কম খেতে হবে।এছাড়া  মিষ্টি দুগ্ধ জাত যেমন রসগোল্লা, চমচম, গুলাব জাম, লাড্ডু, পায়েস,  ইত্যাদি খাওয়া উচিত নয়।
* কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার: অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ধারণ খাবার যেমন পিজ্জা, স্যান্ডউইচ, বার্গার, সমোসা, পাস্তা, নুডলস, পুরি, ফুচকা, মুরগির ফ্রাইড, ফিশ ফ্রাইড, ইত্যাদি এড়িয়ে চলাই ভাল।
* অতিরিক্ত চর্বি: অতিরিক্ত চর্বি জাতীয়  খাবার যেমন তেল, ঘী, মাখন, তেলাপিয়ার মাছ, পুটি ও ভাজা খাবার যেমন ফোড়ন, চপ, আলু বা ফিশ রোল, ভাজা পুরি এবং চিপস সিমিত গ্রহণ করতে হবে
এছাড়া চিকিৎসকের সাথে আলাপ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যে  রেফার করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর :-

*ভরা পেটে ডায়াবেটিস রোগীর পয়েন্ট কত থাকে?
উত্তর:ডায়াবেটিস রোগির মাত্রা অনুসারে ভরা পেটে ডায়াবেটিসের পরিবর্তন হতে পারে। এক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দেয়া সম্ভব না তবে,  ডায়াবেটিস রোগীর প্রতি নিয়ত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

*ডায়াবেটিসে সর্বনিম্ন মাএা কত?
রক্তের সুগারের পরিমান অনুযায়ী ডায়াবেটিসের সর্ব নিম্নপরিমাপ।স্বাভাবিকভাবে, রক্তের সুগারের মাত্রা খালি পেটে সাধারণত 70 থেকে 130 মিলিগ্রাম/ডিলিটার (মিলিগ্রাম/ডিসিলিটার) এর মধ্যে থাকে এবং খাবার খাওয়ার পরে 1 থেকে 2 ঘন্টার মধ্যে সাধারণত 180 মিলিগ্রাম/ডিলিটার এর নিচে থাকে।

ডায়াবেটিসে মধু খাওয়া যাবে কি?
ডায়াবেটিস রোগিদের মধু খাওয়া উচিত নয়। কারন মধুতে উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও সুগার থাকে যার ফলে ডায়াবেটিস রোগীর সুগারের মাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে তাই ডায়াবেটিস রোগীর মধু খাওয়া উচিত নয়।

ডায়াবেটিস রোগীর কাচাঁ সজনে পাতার উপকারিতা :
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কাচাঁ সজনে পাতা খাওয়া অনেক উপকারী।কারন সজনে পাতায় থাকা ভিটামিন, খনিজ, ফাইবারে ভরপুর থাকে যা রক্তের সুগার কমাতে সাহায্য করে উপরোক্ত কারনে ডায়াবেটিস রোগির জন্য কাঁচা সজনে পাতা খুবই গুরুত্তপূর্ণ।

কি কি খাবার খেলে ডায়াবেটিস বাড়ে?
অতিরিক্ত মিষ্টি এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস বাড়ে।

গর্ভ অবস্থায় ডায়াবেটিস ডায়েট চার্ট:

গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি ডায়েট চার্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারন নিজেদের ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াবেটিস রোগির গর্ভ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাথমিক অংশ হলো ফল, সবজি, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ধারাবাহিক খাবার, অন্যান্য পুষ্টিগুলি এবং সঠিক কার্বহাইড্রেট পরিমাণ। গর্ভকালীন নিয়মিত শিশুর প্রভৃতি এবং ডায়াবেটিস পরিস্থিতিতে গ্লাইসিমিক ইন্ডেক্স (GI) গুনাগুন করা হয়। ডায়েটিশিয়ান অথবা ডায়াবেটিস মেডিক্যাল প্রফেশনালের সাথে যোগাযোগ করে একটি ব্যক্তিগত ডায়েট চার্ট তৈরি করা উচিত।

দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার উপায়:

1. প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করা: ব্যায়াম করা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করে রক্তে শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অন্যান্য উপকার পাওয়া যায়।

2. সঠিক খাবার গ্রহণ : ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার কন্ট্রোল করতে হবে।  কার্বহাইড্রেট ও শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

3. রুটিন মানা: ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত  চেকআপ, ব্লাড প্রেশার চেক, অপসিকেল চেক ইত্যাদি করতে হবে।

4. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ডায়াবেটিস পরিচালনা এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করতে হবে । ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের চিকিৎসকের  পরামর্শের অনুসরণ করতে হবে।

5. ঔষধ ব্যবহার: যদি প্রয়োজন হয়, রোগীদের নিয়মিত ঔষধ নিতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে

উপরের নিয়ম মেনে চললে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হবে

ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হবে?

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ইনসুলিন চিকিৎসা প্রয়োজন হয় যদি তাদের শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন কম বা যথার্থ না হয় বা।সাধারণত, ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের চিকিৎসা শুরু হয় যদি রোগীর শরীরে প্রথম প্রকাশিত স্থিতিতে গ্লুকোজের মাত্রা 180-200 মিলিগ্রাম/ডিসিলিটার হয়। তবে, এই সীমা প্রতি রোগীর জন্য বিভিন্ন হতে পারে এবং এটি প্রতিবারই একাধিক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। তাই, ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের চিকিৎসার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রাপ্ত করা উচিত।


ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যেটা আস্তে আস্তে শরিরের গুরুপ্ত পূর্ণ ভিবিন্ন অঙ্গ বিকল করে যার ফলে রোগি মারা যায়।তাই ডায়াবেটিস থেকে বেঁচে থাকতে নিয়ম অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে  

thanks for visit OUR website 

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url