ডেঙ্গুজ্বরের কারন কি ? ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন ও চিকিৎসা।
ডেঙ্গু একটি রোগ যা ডেঙ্গু ভাইরাস এর সংক্রমণের ফলে হয়। এটি একটি ভাইরাল অসুস্থতা যা ডেঙ্গু/এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়।এই ডেঙ্গু জ্বর বা রোগ বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। যার কারণে অনেকে অকালে প্রান হারায়।আসুন জেনে নেওয়া যাক ডেঙ্গু জ্বর সম্পর্কে আরও তথ্য:-
ডেঙ্গু মশা:ডেঙ্গু মশা বা এডিস মশা হলো সাদা ডোরা কাটা মাঝারি ধরনের মশা। এটি সাধারণত পরিষ্কার জমা পানি যেমন ফুটপাথের জমা পানি, পানির পাত্রে, ট্যাঙ্কে, পানির গর্তে ফুলের টব ইত্যাদি জমে থাকা পানিতে প্রজনন করে। এই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জিবানু বহন করে এর কারনে এই মশাকে ডেঙ্গু মশা বলা হয়।ডেঙ্গু মশার বৈঙ্ঘানিক নাম এডিস এজিপ্টাই(Aedes aegypti)। ডেঙ্গু মশা মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এর সংক্রমণে ডেঙ্গু জ্বরে সংক্রমণ হতে পারে।
ডেঙ্গু রোগের কারন :
ডেঙ্গু একটি ভাইরাল জন্তুতন্ত্রের রোগ যা ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) এর কারণে সৃষ্টি হয়। এই ভাইরাস এডেস এজিপ্টি মশা বা ডেঙ্গু মশা বহন করে।ডেঙ্গু মশা যখন মানুষের শরিরে কামর বশায় তখন ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের রক্তে প্রবেশ করে এবং বংশ বিস্তার শুরু করে যার কারনে ডেঙ্গু জ্বরের সৃষ্টি হয়।
ডেঙ্গু রোগের বিস্তার কিভাবে ঘটে?
মশা মাধ্যমে সংক্রমণ: ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের রক্তে মশা মাধ্যমে সংক্রমণ করে। এই মশা অধিকাংশই এডেস এজিপ্টি মশা। এই মশার উপস্থিতিতে ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের জ্বর সংক্রান্ত রোগের সাথে মিলিত হয়।
উচ্চ আবদ্ধতা এলাকা: ডেঙ্গু রোগের বিস্তার সাধারণত উচ্চ আবদ্ধতা এলাকায় ঘটে। এই ধরনের এলাকায় মশা ও মানুষের সংখ্যা অধিক থাকে, তাই এই এলাকায় রোগের প্রসার বেশি হয়ে উঠে।
পরিবর্তনশীল পরিবেশের পরিস্থিতি: বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, ও পরিবেশের পরিবর্তন ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রসারের জন্য প্রভাবশালী হতে পারে।
ঘনবসতি: যে স্থানে মানুষ বেশি সংখ্যায় এক সাথে জীবন যাপন করে, সেখানে ডেঙ্গু রোগের প্রসার বেশি হতে পারে।
মূলত ডেঙ্গু রোগের বিস্তার এভাবেই হয়। এমনকি এই পরিস্থিতিতে মহামারির সৃষ্টি হতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন কি?
প্রাকৃতিক জ্বর: ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত প্রাকৃতিক জ্বরের মতো অনুভুত হয়। এটি জ্বরের সময়ে তাপমাত্রা বাড়ে কিন্তু রোগি মাঝেমাঝে অতিরিক্ত ঠান্ডা অথবা গরম অনুভব করে।
মাথা ও চোখে ব্যাথা: অনেক সময় ডেঙ্গু রোগীর মাথা ব্যাথা এবং চোখের পাতলা অংশে অতিরিক্ত ব্যাথা অনুভব হয়।
শরীরের দূর্বলতা এবং অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট: ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের অতিরিক্ত দূর্ভল অনুভূত এবং শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
রক্তের অতিরিক্ত পরিবর্তন : ডেঙ্গু জ্বরে অনেক সময় রক্তের পাতলা অবস্থা দেখা যায়।
অতিরিক্ত শরীর ব্যথা: ডেঙ্গু জ্বরে অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন জায়গা অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করা হতে পারে।
এই লক্ষণগুলি প্রায়ই ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক লক্ষ্মণ । এই লক্ষণগুলি অন্য কোন কারনেও ঘটতে পারে।সঠিক রোগ নির্নয় করতে অবশ্যই বিষেশঅঙ্গের পরামর্শ নিতে হবে ।
শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কি?
শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষন প্রায় একই কিন্তু শিশু দের ক্ষেএে (১)শরীরের ব্যথা (২)মাথা ব্যাথা (৩) চোখ লাল হওয়া (৪) হাত ও পায়ের চামড়া ফোলা (৫) অত্যন্ত দূর্বল হওয়া (৬)পেটের ব্যথা
(৭)নাক এবং গলায় বা শরীরের অন্যান্য অংশে লালচে দাগ দেখা যায়।
যদি আপনার শিশুর এই লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। ডেঙ্গু জ্বর একটি মারাত্নক রোগ হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে যা সঠিক চিকিৎসা না হলে মৃত্যু প্রজন্ত হতে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ:
যেকোনো রোগ প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ উত্তম। ডেঙ্গু প্রতিরোধ জন্য গুরুত্তপূর্ণ কিছু কাজ :
*বাড়ির আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
*ঢ্রেন, ফুলের টব,ফ্রীজের নিচের জমে থাকা পানি,ইত্যাদি যে সব যায়গা পানি আটকে থাকে সেই সব যায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করা।যাতে এডিস মশা বা ডেঙ্গু মশা ডিম পেরে বংশ বিস্তার না করতে পারে।
* বাড়ি আশেপাশে বনজঙ্গল পরিষ্কার করে রাখা যাতে ডেঙ্গু মশা বাসা বাধতে না পারে।
* ঘুমানোর আগে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
*শহর বা পৌর অঞ্চলের ঢ্রেন, জলাদার, ডোবা ইত্যাদি যায়গায় মশা নাশক ছিটিয়ে দিতে হবে।
উপরোক্ত মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ বা ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা :
*পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা। যেহেতু ডেঙ্গু জ্বরে ডেহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে তাই বেশি বেশি পানি পান করতে হবে
*প্রয়োজনীয় প্রেস্ক্রিপশন ও ঔষধ নিতে হবে এতে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষ্মণ গুলি নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
*মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে ডেঙ্গু মশা যাতে কামরাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
*প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে হবে
*চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।অতিরিক্ত সমস্যা মনে করলে খুব দ্রুত নিকস্থ সাস্ব্য কেন্দ্রে যেতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বরে কি খেতে হবে?
ডেঙ্গু জ্বরে বিশ্রামের সাথে খাবার গ্রহনের তালিকা গুরুপ্তপূর্ন। নিচে উল্লেখিত তালিকা গ্রহণ করা যেতে পারে:
1. পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
2. ফল এবং সবজি যেমন লেবু, কাঁঠাল, তরমুজ, স্ট্রবেরি, পিনাপল, সব্জি যেমন কর্ণফুলি, শিম, পেঁপে, ক্যাপসিকাম, লাউ, কলারবি ইত্যাদি খাবেন।
3. প্রোটিন যেমন ডাল, মাংস, মাছ, ডিম, পালং শাক ইত্যাদি খাবেন।
4. প্রয়োজনে রাইস, রুটি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
5. অতিরিক্ত চর্বি এবং চিনি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বর একটি মহা মারিতে রুপ নিয়েছে যার ফল সরুপ অনেক মানুষ অকালে প্রান হাচ্ছে। আসুন! আমরা সকলে নিজের অবস্থান থেকে পরিষকার পরিচ্ছন্ন হই এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি।
Thanks for visit our website

